শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৪১ অপরাহ্ন

ফুলবাড়ীতে বন্যায় পানিবন্দী ৩০ হাজার মানুষ

রিপোর্টারের নাম / ২৬১ বার
আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

মাহফুজার রহমান মাহফুজ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক মাসের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পানিতে সৃষ্ট প্রবল বন্যায় পানিবন্দী
হয়ে পড়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পড়েছে কোন কোন
এলাকা। উপেজলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোড়ক মন্ডল, ঝামাকুিট, গোড়ক মন্ডল ঘাঘুএলাকার প্রায় ৪শ’
৫০ পরিবার; শিমুলবাড়ী ইউিনয়েনর পেচাই, জত্যিন্দ্রনারায়ন, রােশন শিমুলবাড়ী, সােনাইকাজী, ও তালুক
শিমুলবাড়ী একাংশের প্রায় ১ হাজার ২শ’ পরিবার; ফুলবাড়ী ইউনিয়নের কবির মামুদ, প্রাণকৃষ্ণ, ও চন্দ্রখানার
প্রায় ৫শ’ পরিবার; বড়ভিটা ইউনিয়নের মেখলি, পশ্চিম ধনীরাম, পুর্ব ধনীরাম, ঘোগারকুটি, চর বড়িভটা, চর
বড়লই গ্রামের প্রায় ২ হাজার ২শ’ পরিবার; ভাঙ্গােমাড় ইউনিয়নের খােচাবাড়ী, রাঙ্গামাটিও ভাঙ্গােমাড় গ্রামের
প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপেজলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ
এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ। তলিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে
রয়েছে আউশ ধান, কলাবাগান, পাটক্ষেত, সবিজ ক্ষেত ও বীজতলা। অনেক স্থানে রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়
যােগােযাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকাগুলো। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে
মানুষগুলো। আশপাশে কােন শুকনাে জায়গা না থাকায় গবাদী পশুনিয়ে স্থানীয়দের পড়েত হচ্ছে আরো বিপদে।
অনেকে গবাদী পশুসহ এসে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। কেউবা আশ্রয়কেন্দ্রে বা কোন শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে। কেউ কেউ ঝুকি নিয়ে কলাগাছের ভেলায় অথবা উঁচুকরে মাচা পেতে রয়েছে নিজ বাড়ীতে। অনেক
পরিবারের রান্না করার সুযােগ না থাকায় তৈরি খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। আত্মীয় সজনদের দিয়ে যাওয়া
খাবার ও আশপাশের বাজার থেক কিনে আনা চিড়া, মুড়ি কলা আর পাউরুিট খেয়ে দিনানিপাত করেছ পানিবন্দী
মানুষগুলো। শিশু ও বয়ষ্কদের নিয়ে তাদের পরতে হচ্ছে চরম বিপাকে। এই দুর্যােগে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন
পরিষদগুলাে থেকে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা প্রয়ােজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। শিমুলবাড়ী ইউিনয়েনর
চেয়ারম্যান এজাহার আলী জানান, আমার ইউনিয়নে বন্যা কবিলত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২শ’ পরিবার। কিন্তু
এখন পর্যন্ত ২শ’ পরিবারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১০ কেজি করে চালের বরাদ্দ পেয়েছি। বন্যা
কবলিতদের তুলনায় এ ত্রাণ অত্যন্ত অপ্রতুল। ভাঙ্গােমাড় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবুজানান, এ
ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত। বানভাসিদের অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে ও ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয়
নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩শ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল ও পঁচিশ টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছি। বড়ভিটা
ইউিনয়ন চেয়ারম্যান খয়বর আলী মিয়া জানান, এ ইউনিয়নে বন্যার কবলে পড়েছে প্রায় ২ হাজার ২শ’ পরিবার।
কিন্তু ত্রাণের বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৩ শ’ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল ও পঁচিশ টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশীদ জানান, ৪৫ হেক্টর আউশ ধান, ৮৮ হেক্টর সবজি ক্ষেত, ৮৭ হেক্টর
বীজতলা, ৩শ’ ৮০ হেক্টর পাটক্ষেত ও ৫০ হেক্টর কলাবাগান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলে
ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানানো যাবে।
উপেজলা মৎস্য অফিসার রায়হান উদ্দিন সরদার বলেন, ভাঙ্গামােড় ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি ও খােচাবাড়ী
এলাকার ২৪টি পুকুর পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সরেজমিন ঘুরে বড়ভিটা
ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের অনেক পুকুর পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে। যেগুলাে নেটজাল দিয়ে ঘিরে কােন আটকে রাখা হয়েে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত
Theme Created By ThemesDealer.Com
DMCA.com Protection Status