বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

উত্তর জনপদ থেকে চির তরে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লম্পো বা কুপি বাতি।।

রিপোর্টারের নাম / ৩৭৮ বার
আপডেট সময় সোমবার, ২৫ মে, ২০২০
ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিবেদনঃ

কেউ বলে লম্পো, কেউ বলে ল্যাম্প, কেউ বলে কুপি আজ শুধুই ঐতিহ্য ও ইতিহাস। বর্তমান যুগের ছেলে মেয়েরা এগুলোর দেখা তো দূরের কথা, নামটাই জানে না। এককালে জনপ্রিয় ছিল এই কুপি বা লম্পো। ঐতিহ্য ধরে রাখতে অনেক সৌখিন পরিবার এই কুপি বা লম্প বাসায় সাজিয়ে রেখেছে।
আধুনিকতার সংস্পর্শের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে বর্তমান সভ্যতার বৈদ্যুতিক যুগে গ্রামবাংলার এক সময়ের জনপ্রিয় কুপি বা লম্পো বাতি কালের বিবর্তনে হারিয়ে উত্তরজনপদ থেকেে হারিয়ে   যেতে বসেছে। এই কুপি বা লম্পো বাতি শুধুই এখন স্মৃতি। এই কুপি বা লম্পোই ছিল এককালে মানুষের আলোর ভরসা।
বর্তমান যুগ আধুনিকতার যুগ। এই যুগে কি মাটি অথবা কাঁচের তৈরী কুপি বা লম্পোর ব্যবহার এখন অসম্মানজনক। এখন বিদ্যুত ছাড়া মানুষের জীবন এক বিন্দুও চলে না। অথচ হাজার হাজার বছর এই কুপি বা লম্পোর উপর নির্ভর করে জীবন চলেছে অনায়াসে।
জানা গেছে,কালের বির্বতনে লম্পো বা কুপি বাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্ব, চার্জার, চার্জার ল্যাম্প, চার্জার লাইট সৌর বিদ্যুতসহ অারো অনেক কিছুই। অাধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে অাহবহমান গ্রামবাংলার লম্পো বা কুপি বাতি যেন হারিয়ে যাচ্ছে রুপসী বাংলার গ্রামের পাড়াগুলো থেকে। এক সময় অাহবহমান গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এই কুপি বা লম্পো বাতি নিভু নিভু করে অালো দিতো। যা এখন কমই চোখে পড়ের না । রুপসী-গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা প্রযোজনীয় কুপি বা লম্পো বাতি অাজ অাধুনিকতার ছোয়ায় প্রকার কালের বিবর্তনে বিলীন হয়ে গেছে বললেই চলে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান
অামাবস্যার রাতে মিটি মিটি অালো জ্বালিয়ে গ্রামের মানুষের পথ চলার স্নৃতি এখনো সৃষ্টিশীলদের কাছে টানে। এমন একটা সময় ছিল যখন গ্রামবাংলার অাপামর জনসাধারণের অন্ধাকারে একমাএ অালোক বর্তিকার কাজ করতো এই কুপি বা লম্পো বাতি। কুপি বা লম্পো বাতিগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের ও বাহারী রঙের ।

এই লম্পো বা কুপিগুলো তৈরি হত কাঁচ, মাটি, লোহা অার পিতল দিয়ে। গ্রামবাংলার মানুষ সামর্থ অনুযায়ী লম্পো বা কুপি কিনে ব্যবহার করতেন। বাজারে সাধারনত দুই ধরনের লম্পো বা কুপি পাওয়া যেত বড় ও ছোট। বেশি অালোর প্রযোজনে লম্পো বা কুপি বাতিগুলো কাঠ এবং মাটির তৈরী গছা অথবা স্টান্ডের উপর রাখা হত। এই গছা অথবা স্টান্ডগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের ও বাহারী । এই গছা বা স্ট্যান্ডগুলোও আজ গ্রাম বাংলা থেকে বিলীন হয়ে গেছে।

কিন্তু বর্তমানে গ্রামে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় লম্পো বা কুপি বাতির কদর যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্রামবাংলার মানুষ ব্যবহার করছেন সৌর বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন রকমের র্চাজার। রুপসী-গ্রামবাংলা মানুষের কাছে লম্পো বা কুপি বাতির কদর কমে গেলেও অাবার কেউ কেউ এই কুপি বাতির স্মৃতি অাকড়ে ধরে অাছেন।
সরেজমিনে দেখা যায় কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের শান্তি বালার বাড়ীতে এখনো এই বাতি ব্যবহার করা হয়। অপর দিকে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে লক্ষী রানীর বাড়ীতে এখনো নিভু নিভু করে চলে এই লম্পো বা কুপি বাতি।

উত্তর জনপদে অনেকেই অাবার সৌখিন হিসাবেও লম্পো বা কুপি বাতি ব্যবহার করতে দেখা যায। উওর বড়ভিটা গ্রামের অনেশ চন্দ্র দাসের বাড়ীতে এখনও এই কুপি বাতির অালো তার ঘরকে অালোকিত করে। তিনি জানান যে,ব অামরা গরিব মানুষ টাকা পয়সা নাই তাই সোলার বা সৌর -বিদ্যুৎ নেওয়ার মত সামর্থ অামাদের নেই। তাই এখনো আমরা লম্পো বা কুপি বাতি ব্যবহার করি।

তাই বিদ্যুৎ বা সৌর -বিদ্যুৎ এর যুগেও অামরা এখনও এই লম্পো বা কুপি বাতি ব্যবহার করছি । অনেকে অাবার স্বযত্নে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নিদর্শণ স্বরুপ এটি সংরক্ষণ করে রেখেছেন ।

লম্পো বা কুপি বাতির ব্যবহার ও কদর যে হারে লোপ পাচ্ছে তাতে অদুর ভবিষ্যতে লম্পো বা কুপি বাতির কথা শুধু লোকমুখেই শোনা যাবে। কখনো হয়তো যাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত
Theme Created By ThemesDealer.Com
DMCA.com Protection Status